মহামারী চলাকালীন ই-কমার্সের জন্য অনেক সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছিল, যা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল টুল এবং দক্ষতার ভিত্তিতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম এর সমস্ত সুযোগ সুবিধা পেতে সাহায্য করেছে।
আজ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ই-কমার্সের মাধ্যমে ব্যবসা বাড়াতে আরও বেশি নারী উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল ডিভাইস প্রদান এবং ডিজিটালাইজেশন এর জন্য দক্ষতার সাথে প্রস্তুত করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, মহামারী চলাকালীন ই-কমার্সের জন্য অনেক সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছিল, যা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল টুল এবং দক্ষতার ভিত্তিতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম এর সমস্ত সুযোগ সুবিধা পেতে সাহায্য করেছে।
উইমেনস এমপাওয়ারমেন্ট ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ (উইং) যা ইউএনডিপি, ইউএন উইমেন এবং ইউএনসিডিএফ-এর যৌথ উদ্যোগ এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাস সহায়তায় পরিচালিত একটি প্রকল্প, ইউএনডিপি দুটি স্টাডির উপর "ই-কমার্সের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন: ডিজিটাল ডিভাইস টু ব্রিজ ডিজিটাল ডিভাইড শিরোনামের একটি কর্মশালার আয়োজন করে ।
জনাব এন এম জিয়াউল আলম, সিনিয়র সচিব, আইসিটি বিভাগ, কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যোগদান করেন এবং বলেন, , “নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম চাবিকাঠি; এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নের জন্য আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন”।
তিনি বাংলাদেশের প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ডিজিটাল বিভাজন কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ইউএনডিপিকে ধন্যবাদ জানান।
এর আগে ইউএনডিপির উইং ও স্বপ্ন প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প ব্যবস্থাপক কাজল চ্যাটার্জি এবং ইউএনডিপির কান্ট্রি ইকোনমিস্ট নাজনীন আহমেদ উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। তারা দেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস যিনি গবেষণার প্রধান ছিলেন, গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। বিআইডিএস দ্বারা পরিচালিত গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে যে, উদ্যোক্তারা তাদের নিজ নিজ পর্যায়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এছাড়াও, ক্রমাগত দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা সহ পর্যায়ক্রমিক ফলোআপ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
বিআইডিএস রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট রিজওয়ানা ইসলাম এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুর রহমান ফরহাদ উক্ত গবেষণায় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন ।
নিড এসেসমেন্ট স্টাডি টি অনলাইন ব্যবসায়িক কাজে নারীদের অংশগ্রহণের আলোকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ, চাহিদা এবং অগ্রাধিকারগুলি নিয়ে গবেষণা করে। ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট স্টাডিতে ব্যবসায়িক অনুশীলন এবং নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের মাধ্যমে ই-কমার্স এ অন্তর্ভুক্তির প্রভাব বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে ।
নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার মুশফিকা জামান সাতিয়ার, আইসিটি বিভাগের আইডিইএ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোঃ আলতাফ হোসেন,, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ হাফিজুর রহমান এবং বিআইডিএস মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ।
ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি, ভ্যান গুয়েন-তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “ডিজিটাল ডিভাইস কীভাবে নারীদের জীবিকা নির্বাহে অবদান রাখতে সক্ষমতা বাড়ায় তার একটি প্রমাণিত ফলাফল রয়েছে; যদিও, সঠিক ডিজিটাল অবকাঠামো এবং ডিজিটাল দক্ষতা ছাড়া, আমরা সুফল পেতে পারি না। ইউএনডিপি ডিজিটাল বিভাজন কমাতে সরকার এবং অংশীদারদের সাথে কাজ করছে।”
কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল স্টেকহোল্ডার, সরকারি কর্মকর্তা, সরকারি/বেসরকারি অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের সংস্থা এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের থেকে গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া এবং প্রোগ্রামেটিক সুপারিশ পাওয়া এবং সম্ভাব্য সহযোগিতামূলক সুযোগের বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া।
উইং একটি তিন বছরের প্রোগ্রাম যার লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সহায়তা করা । ২০২০ কোবিড মহামারীর সময় প্রান্তিক নারী ক্ষুদ্র-উদ্যোক্তাদের বৃহত্তর বাজারে প্রবেশাধিকারের জন্য উইং প্রোগ্রামের মাধ্যমে আনন্দমেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।