পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিলের কক্সবাজার থেকে পায়ে হেঁটে এভারেস্ট শিখরে ‘সী টু সামিট’ অভিযান শুরু
February 26, 2025
প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশরক্ষায় টেকসই সমাধান প্রচারের জন্য জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ইয়ুথ অ্যাডভোকেট হিসেবে,পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মঙ্গলবার সকাল ১১:০০ টায় কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্র সৈকত থেকে পায়ে হেঁটে হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বতশিখর মাউন্ট এভারেস্ট যাত্রা শুরু করেছেন ।
পতাকা-পদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অভিযানের যাত্রার শুভ সূচনা করা হয়েছে যেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপি এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং উপ আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দয়ারাত্নে সহ আরো অনেকে ।
আশা করা যায়, এই অভিযানে ৯০ দিনে বাংলাদেশ, ভারত এবং নেপালের উপর দিয়ে প্রায় এক হাজার তিন শত কিলোমিটার দীর্ঘ ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে এভারেস্ট-এর ২৯,০৩১ ফুট উঁচু শিখরে শিখর আরোহণ করবেন। এ অভিযানে তার সাথে আছে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। অভিযানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক বা টাইটেল স্পনসর হিসেবে আছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপ। স্ন্যাক্স পার্টনার হিসেবে আছে মিস্টার নুডলস। গিয়ার পার্টনার হিসেবে আছে মাকালু-ই-ট্রেডার্স নেপাল। হেলথ পার্টনার হিসেবে আছে সিস্টেমা বাংলাদেশ এবং অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় বেশ কিছু মানুষ, যা সফল হলে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ অভিযানের মাধ্যমে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং টেকসই উপায়ে লক্ষ্য অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরতে চান। কক্সবাজার থেকে এভারেস্ট বেসক্যাম্প পর্যন্ত ১,৩০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দেওয়ার পর তিনি এভারেস্টের চূড়ায় উঠবেন। তার লক্ষ্য হলো, দুর্গম অভিযানও পরিবেশের ক্ষতি না করেই অভিযান সম্পন্ন করা সম্ভব।
শাকিল বলেন, এ অভিযান শুধু একটি রেকর্ড গড়ার প্রচেষ্টা নয়, এটি প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান। বঙ্গোপসাগর থেকে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ পর্যন্ত ভ্রমণের মাধ্যমে আমি মানুষকে প্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে ভাবাতে এবং সবাইকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করতে চাই।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার প্লাস্টিক দূষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "প্লাস্টিক দূষণ আমাদের সময়ের অন্যতম বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, যা জীববৈচিত্র্যকে বিপন্ন করছে, সাগরকে দূষিত করছে এবং লাখো মানুষের জীবিকা প্রভাবিত করছে। এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ ও ব্যাপক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, শাকিলের অভিযান মানুষকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানোর এবং টেকসই জীবনধারা গ্রহণের জন্য অনুপ্রাণিত করবে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার এই প্রচেষ্টায় তার সফলতা কামনা করি।"